আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।
এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকার এবং পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) আসলে নিজেদের ক্রিকেটের পায়েই কুড়াল মারছে। তার মতে, সঠিক চিন্তাভাবনা না করার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন, ‘পিসিবি বা পাকিস্তান সরকার তাদের সমস্যা সমাধান না করে বরং জটিল করছে।
তারা বাংলাদেশকে সমর্থন করতে চায়, করুক; কিন্তু দিনশেষে এর ফলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয়ই ভুগবে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দেশগুলো ঠিকই স্পন্সরশিপ এবং দর্শক পাবে, পিছিয়ে পড়বে কেবল ওরাই।’
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাদের দল বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না।
মূলত ‘নিরাপত্তাহীনতার যুক্তিতে’ ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিলে, তাদের প্রতি সংহতি জানাতেই পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নেয়।
আইসিসি জানিয়েছে যে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আইসিসি।
বিসিবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা না দেওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে স্কটল্যান্ডকে।
আইসিসির মতে, টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা এবং পূর্বনির্ধারিত সূচির মর্যাদা রক্ষার্থেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-তে ভারতের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে।