নানা অনিয়মের অভিযোগে সারাদেশে চারটি অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম এসব অভিযান পরিচালনা করে।
বিষয়টি দুদকের জনসংযোগ শাখা নিশ্চিত করেছে।
কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন
কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে অসাধু যোগসাজশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কক্সবাজার থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরিদর্শনকালে স্টেশন মাস্টারের বক্তব্য পর্যালোচনা এবং সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিতি, টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে দালালদের সঙ্গে যোগসাজশসহ বিভিন্ন অসংগতি প্রতীয়মান হয়। এছাড়া ট্রেনের টিকিট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে টিম কর্তৃক বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কোম্পানীগঞ্জ
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালীর বিরুদ্ধে টিসিবি ও ওএমএসের চাল অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী থেকে আরেকটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে টিম অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ভুক্তভোগী ডিলারদের সঙ্গেও কথা বলে। পাশাপাশি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
বাগেরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের জেলা কার্যালয়, বাগেরহাট থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে টিম ছদ্মবেশে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি ও সেবার মান, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্যাথলজি বিভাগ, স্টোররুম, ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থা, রান্নাঘর ও বাথরুম সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক নয়; বিশেষ করে বাথরুমগুলো ব্যবহার অনুপযোগী। অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল এবং সকালের ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী ১৩ জন নার্সের পরিবর্তে মাত্র ৩ জন নার্সকে কর্তব্যরত পাওয়া যায়। বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় হাজিরা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রমাণ ম্যানুয়াল রেজিস্টারে প্রতীয়মান হয়।
এছাড়া টিকিট কাউন্টারে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। রোগীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত সব ওষুধ তারা পাচ্ছেন না এবং ইসিজি ছাড়া এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হাসপাতালে করা সম্ভব হচ্ছে না; এসব পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। পরিদর্শনকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি অকেজো এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের পরিমাণ নির্ধারিত মেনুর তুলনায় কম সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও প্রতীয়মান হয়। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরা
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার নং ১৫ পুনর্বাসন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা থেকে আরেকটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ড–১, সাতক্ষীরার আওতাধীন শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন পুনর্বাসন বাঁধ প্রকল্পের এস্টিমেট, মেজারমেন্ট বুক (এমবি), বিল অব এন্ট্রি, কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। বাঁধ নির্মাণ কাজের গুণগত মান ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ প্রকৌশলী টিম নিয়োগ করে সরেজমিনে পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনকালে নির্মাণাধীন বাঁধের বিভিন্ন অংশের পরিমাপ গ্রহণ এবং ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত নমুনার ল্যাবরেটরি যাচাই প্রতিবেদন ও নিরপেক্ষ প্রকৌশলী টিমের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়ার পর এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।