রাজধানীর মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল খোশনবীশের বৈধ নিয়োগের বিষয়ে আদালতের একাধিক রায় উপেক্ষা করে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে । যা আইন বর্হিভূত। একইসঙ্গে একটি কু- চক্র মহলের এ ধরনের আরো পাতানো কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ডিআইএর তদন্তকারী প্রতিনিধিদল প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকদের বিষয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা অধ্যক্ষের বিষয়ে মন্তব্য করেন, নিয়োগকালীন অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ গভর্নিং বডির অন্তর্ভুক্ত সদস্যসচিব তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ অবৈধ নির্দেশনা থাকায় ওই গভর্নিং বডির নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি মর্মে অভিযোগ প্রমাণিত। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের রিপোর্টের সুপারিশে ২০১৮ সালের ১৩ মে পত্র নং ৩৭.০০.০০০০.০০০.৩৯.০১৭.১৭.১২৪ এর মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক এ বি এম আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি ইস্যু করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আবদুছ ছালাম ওই পত্রের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন নং ৬২৩৩/২০১৮ দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ১৬ মে আদালত ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ওই পত্রের কার্যকারিতা চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। ওই রায়ের কপিসহ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুছ ছালাম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে সেই বছরের ২৫ জুন পত্র নং ৩৭.০০.০০০০ .০০০.৩৯.০১৭.১৭.১৬৮ এর মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১৩ মে পত্র নং ৩৭.০০.০০০০.০০০.৩৯.০১৭.১৭.১২৪ এবং একই বছরের ১০ জুন পত্র নং- ৩৭.০০.০০০০.০০০.৩৯.০১৭ .১৭.১৫৫ দুটির কার্যকারিতা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। স্থগিত থাকা অবস্থায় অধ্যক্ষের নিয়োগকালীন সময়ের গভর্নিং বডি গঠন এবং অধ্যক্ষের নিয়োগ সম্পন্ন হয়। পরে সরকার পক্ষ এ বি এম আব্দুস সালামের রিট পিটিশন নং ৬২৩৩/২০১৮ এর বিরুদ্ধে এপিলেট ডিভিশনে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ২৭০৩/২০১৮ দায়ের করলে আদালত ফুল বেঞ্চে শুনানির জন্য অগ্রায়ণ করেন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ২২ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চারজন বিচারপতির সর্বসম্মতিক্রমে রিট পিটিশন নং ৬২৩৩/২০১৮ এর বিরুদ্ধে করা সরকার পক্ষের আপিলের কোনো মেরিট না থাকায় আপিলটি ডিসমিস করে দেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুছ ছালামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয় এবং তিনি বৈধ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ বলেন, ডিআইএ তদন্ত রিপোর্টের কোথাও আমাকে অবৈধ বলেনি। নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুছ সালাম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত গভর্নিং বডির ২০১৯ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারির সভায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন এবং আমি সভাপতি বরাবর প্রধান শিক্ষক শূন্য পদে আবেদন করেন। নিয়োগ বোর্ডে সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টরা সকলে উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হই। সভাপতি আমাকে নিয়োগপত্র প্রদান করেন। নিয়োগপত্রের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় মেনে ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ মীরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করি।
তিনি আরো বলেন, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সহকারী প্রধান শিক্ষক (এ বি এম আব্দুছ ছালাম) প্রধান শিক্ষককের কর্তৃপক্ষ হতে পারে না। যেহেতু আমার নিয়োগ ও যোগদান গভর্নিং বডির সভাপতির মাধ্যমে হয়েছে, সেহেতু আমার নিয়োগে এ বি এম আবদুছ ছালামের (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) কোনো বৈধতা বা অবৈধতার বিষয়ের সাথে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়। সেই ক্ষেত্রে আমার নিয়োগ সম্পূর্ণ বৈধ এবং আইনসিদ্ধ। মোস্তফা কামাল বলেন, এখানে মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালে ১৩ মে’র পত্র নং ৩৭.০০.০০০০.০০০.৩৯. ০১৭.১৭.১২৪ এবং ১০ জুনের পত্র নং- ৩৭.০০.০০০০.০০০.৩৯.০১৭.১৭.১৫৫ এর ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায় অনুসারে উক্ত দুটি চিঠির কার্যকারিতা ২৫ জুন পত্র নং ৩৭.০০.০০০০.০০০.৩৯.০১৭.১৭.১৬৮ এর মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্থগিত হয়।
তিনি আরো জানান, এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এপিলেট ডিভিশনের রায়ের কপি সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তারা অবগত নন। কারণ তদন্ত কর্মকর্তাগণ কর্তৃক আমার নিয়োগের সকল কাগজপত্র চাওয়া হলেও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আবদুছ ছালামের কোনো কাগজপত্র চাওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা কোর্টের রায় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্থগিতকৃত চিঠি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে গোপন করেছেন।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আবদুছ ছালাম বলেন, একটি কুচক্রী মহল হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কার্যকলাপ করছে। অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল খোশনবীশের নিয়োগে কোনো ঝামেলা নেই, সব নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নিতির কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি।
নিউজ ডেস্ক 












