ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা জরুরি

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 17
এলডিসি উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনের জন্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা এবং নীতি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসা প্রশাসকরা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‌‘‌‌‍বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ: নীতি অনুশীলনের সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ‍’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে।

যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

 

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে ‘বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালন ব্যয় হ্রাস, সরকারি এজেন্সি সমূহের সেবার মান ও কাজের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠিত করার ওপর জোর দিতে হবে।

আইবিএফবি’র পরিচালক এম এস সিদ্দিকী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার কর্তৃক গৃহীত আইন ব্যবসা সহজীকরণ নীতির বিপরীতে যায়।

যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। 

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, আমাদের (সরকারি দপ্তর) পদ্ধতিগত কিছু জটিলতা আছে। তবে সেগুলো সহজীকরণের সুযোগ রয়েছে। এ সময়, সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের আহ্বান জানান তিনি।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশকিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সবার মধ্যে আচরণগত সংস্কার খুবই জরুরি।

সভার স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবি‘র সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান বলেন, আইবিএফবি বিশ্বাস করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তা কেবল আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং অংশীদারত্বমূলক দায়বদ্ধতা।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মো. জাফর ইকবাল, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা জরুরি

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
এলডিসি উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনের জন্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা এবং নীতি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসা প্রশাসকরা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‌‘‌‌‍বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ: নীতি অনুশীলনের সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ‍’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে।

যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

 

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে ‘বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালন ব্যয় হ্রাস, সরকারি এজেন্সি সমূহের সেবার মান ও কাজের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠিত করার ওপর জোর দিতে হবে।

আইবিএফবি’র পরিচালক এম এস সিদ্দিকী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার কর্তৃক গৃহীত আইন ব্যবসা সহজীকরণ নীতির বিপরীতে যায়।

যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। 

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, আমাদের (সরকারি দপ্তর) পদ্ধতিগত কিছু জটিলতা আছে। তবে সেগুলো সহজীকরণের সুযোগ রয়েছে। এ সময়, সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের আহ্বান জানান তিনি।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশকিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সবার মধ্যে আচরণগত সংস্কার খুবই জরুরি।

সভার স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবি‘র সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান বলেন, আইবিএফবি বিশ্বাস করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তা কেবল আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং অংশীদারত্বমূলক দায়বদ্ধতা।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মো. জাফর ইকবাল, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ প্রমুখ।