ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভালোবাসার প্রভাব

আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা শুধু একটি অনুভূতি নয়, বরং এটি ঈমানের প্রাণ, ইবাদতের ভিত্তি এবং মুক্তির সুনিশ্চিত পথ। যে হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা বাস করে, সে হৃদয় আনুগত্যে নরম হয়, গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনে সদা সচেষ্ট থাকে। ইমাম হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘জেনে রেখো, তুমি কখনো আল্লাহকে ভালোবাসতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি তাঁর আনুগত্য করতে ভালোবাসো।’

আর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে মুহাম্মদ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো।

 

তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ৩১)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আল্লাহর ভালোবাসা লাভের অন্যতম পথ হলো রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করা-তাঁর কথা, কাজ ও চরিত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে। নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর ভালোবাসার অধিকারী হতে পারে।

 

দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা আমাদের যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন সেই উদ্দেশ্যে মনোনিবেশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

অতএব, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমেই বান্দা তাঁর ভালোবাসা অর্জন করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করে।

আল্লাহর ভালোবাসার কিছু মহিমান্বিত প্রভাব

১. আল্লাহর ক্ষমা লাভ ও তাওবার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া : আল্লাহর ভালোবাসা বান্দাকে তাঁর ক্ষমার অধিকারী করে তোলে।

 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন।’
(সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ৩১)

এতে বোঝা যায়, আল্লাহর ভালোবাসা বান্দার জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয় এবং তাকে তাওবার পথে দৃঢ় রাখে।

২. সৃষ্টিজগতের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ : আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন সেই ভালোবাসার প্রতিফলন পুরো সৃষ্টিজগতে ছড়িয়ে পড়ে। ইমাম মুসলিম (রহ.) তাঁর সহিহ মুসলিম গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরাইল (আ.)-কে ডেকে বলেন, ‘আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো।’ তখন জিবরাইল তাকে ভালোবাসেন এবং আসমানে ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো।

 

’ ফলে আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে। এরপর পৃথিবীতেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৩৭)
এভাবে আল্লাহর ভালোবাসা বান্দার জন্য মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা করে।

৩. আল্লাহর বিশেষ হেফাজত, সাহায্য লাভ ও দোয়া কবুল হওয়া : যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাকে তিনি নিজ তত্ত্বাবধানে রাখেন, হেফাজত করেন, সাহায্য করেন এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন আমি কোনো বান্দাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে; তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে; তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে কাজ করে; এবং তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে, আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি; আর সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিই।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও নৈকট্যের প্রকাশ।

৪. আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর আদেশ পালনে উদ্বুদ্ধ করে। ভালোবাসা ইবাদতের সর্বোচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ ভিত্তি; কেননা সব আনুগত্য ও আমলের মূল প্রেরণা এই ভালোবাসাই। এ ভালোবাসাই একজন মুমিনকে বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে উৎসাহিত করে, তাঁর নির্দেশ মেনে চলতে শক্তি জোগায় এবং ইবাদতের কষ্টকে সহজ করে তোলে। ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর জান্নাতে প্রবেশের পথ সুগম হয়।

৫. আল্লাহর স্মরণে সদা নিমগ্ন থাকা : আল্লাহর ভালোবাসা বান্দাকে অধিক পরিমাণে জিকিরে অভ্যস্ত করে তোলে। সে বারবার আল্লাহকে স্মরণ করে, অন্য সবকিছু থেকে মন ফিরিয়ে নিয়ে এমন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে। এভাবেই বান্দা ক্রমে আল্লাহর ভালোবাসার যোগ্য হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে বলেন, ‘আমি আমার বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সে যদি মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমি তাকে মনে মনে স্মরণ করি; আর সে যদি কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)

আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করে বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তার দ্বিন থেকে ফিরে যায়, তবে আল্লাহ শিগগিরই এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন, যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসবে।’(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫৪)

এ আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহর সঙ্গে পারস্পরিক ভালোবাসাই হলো ঈমানের প্রকৃত সৌন্দর্য ও শক্তির উৎস। ইমাম ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহর ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্তর হলো : যখন তাঁর দান ও তাঁর বঞ্চনা তোমার কাছে সমান হয়ে যায়, তখনই তুমি আল্লাহর ভালোবাসার চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছো।’

সুতরাং আল্লাহর ভালোবাসাই হলো একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন। এই ভালোবাসা বান্দাকে আনুগত্যে দৃঢ় করে, ইবাদতে স্বাদ এনে দেয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করে। আর আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি তখনই সত্য হয়, যখন তাঁর আদেশ ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

পাকিস্তানে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আইএসের দায় স্বীকার

মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভালোবাসার প্রভাব

আপডেট সময় : ১১:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা শুধু একটি অনুভূতি নয়, বরং এটি ঈমানের প্রাণ, ইবাদতের ভিত্তি এবং মুক্তির সুনিশ্চিত পথ। যে হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা বাস করে, সে হৃদয় আনুগত্যে নরম হয়, গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনে সদা সচেষ্ট থাকে। ইমাম হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘জেনে রেখো, তুমি কখনো আল্লাহকে ভালোবাসতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি তাঁর আনুগত্য করতে ভালোবাসো।’

আর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে মুহাম্মদ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো।

 

তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ৩১)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আল্লাহর ভালোবাসা লাভের অন্যতম পথ হলো রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করা-তাঁর কথা, কাজ ও চরিত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে। নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর ভালোবাসার অধিকারী হতে পারে।

 

দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা আমাদের যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন সেই উদ্দেশ্যে মনোনিবেশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

অতএব, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমেই বান্দা তাঁর ভালোবাসা অর্জন করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করে।

আল্লাহর ভালোবাসার কিছু মহিমান্বিত প্রভাব

১. আল্লাহর ক্ষমা লাভ ও তাওবার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া : আল্লাহর ভালোবাসা বান্দাকে তাঁর ক্ষমার অধিকারী করে তোলে।

 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন।’
(সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ৩১)

এতে বোঝা যায়, আল্লাহর ভালোবাসা বান্দার জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয় এবং তাকে তাওবার পথে দৃঢ় রাখে।

২. সৃষ্টিজগতের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ : আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন সেই ভালোবাসার প্রতিফলন পুরো সৃষ্টিজগতে ছড়িয়ে পড়ে। ইমাম মুসলিম (রহ.) তাঁর সহিহ মুসলিম গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরাইল (আ.)-কে ডেকে বলেন, ‘আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো।’ তখন জিবরাইল তাকে ভালোবাসেন এবং আসমানে ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো।

 

’ ফলে আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে। এরপর পৃথিবীতেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৩৭)
এভাবে আল্লাহর ভালোবাসা বান্দার জন্য মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা করে।

৩. আল্লাহর বিশেষ হেফাজত, সাহায্য লাভ ও দোয়া কবুল হওয়া : যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাকে তিনি নিজ তত্ত্বাবধানে রাখেন, হেফাজত করেন, সাহায্য করেন এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন আমি কোনো বান্দাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে; তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে; তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে কাজ করে; এবং তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে, আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি; আর সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিই।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও নৈকট্যের প্রকাশ।

৪. আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর আদেশ পালনে উদ্বুদ্ধ করে। ভালোবাসা ইবাদতের সর্বোচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ ভিত্তি; কেননা সব আনুগত্য ও আমলের মূল প্রেরণা এই ভালোবাসাই। এ ভালোবাসাই একজন মুমিনকে বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে উৎসাহিত করে, তাঁর নির্দেশ মেনে চলতে শক্তি জোগায় এবং ইবাদতের কষ্টকে সহজ করে তোলে। ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর জান্নাতে প্রবেশের পথ সুগম হয়।

৫. আল্লাহর স্মরণে সদা নিমগ্ন থাকা : আল্লাহর ভালোবাসা বান্দাকে অধিক পরিমাণে জিকিরে অভ্যস্ত করে তোলে। সে বারবার আল্লাহকে স্মরণ করে, অন্য সবকিছু থেকে মন ফিরিয়ে নিয়ে এমন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে। এভাবেই বান্দা ক্রমে আল্লাহর ভালোবাসার যোগ্য হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে বলেন, ‘আমি আমার বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সে যদি মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমি তাকে মনে মনে স্মরণ করি; আর সে যদি কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)

আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করে বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তার দ্বিন থেকে ফিরে যায়, তবে আল্লাহ শিগগিরই এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন, যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসবে।’(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫৪)

এ আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহর সঙ্গে পারস্পরিক ভালোবাসাই হলো ঈমানের প্রকৃত সৌন্দর্য ও শক্তির উৎস। ইমাম ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহর ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্তর হলো : যখন তাঁর দান ও তাঁর বঞ্চনা তোমার কাছে সমান হয়ে যায়, তখনই তুমি আল্লাহর ভালোবাসার চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছো।’

সুতরাং আল্লাহর ভালোবাসাই হলো একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন। এই ভালোবাসা বান্দাকে আনুগত্যে দৃঢ় করে, ইবাদতে স্বাদ এনে দেয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করে। আর আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি তখনই সত্য হয়, যখন তাঁর আদেশ ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা হয়।