শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত হওয়ায় হাদিসে এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ অর্থাৎ অর্ধ শাবানের রাত বলা হয়েছে। বিশ্ব মুসলিমের বিশ্বাস, এ রাতে অসংখ্য বান্দা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত লাভ করে থাকেন। এ কারণে এ রজনীকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা নিষ্কৃতি ও মুক্তির রজনী বলা হয়।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ রজনী সম্পর্কে বলেছেন, এ রাতে ইবাদতকারীদের গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন। তবে আল্লাহর সঙ্গে শিরককারী, সুদখোর, গণক, জাদুকর, কৃপণ, মদ্যপায়ী, ব্যভিচারী এবং পিতা-মাতাকে কষ্টদানকারীকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।
শবে বরাতের নামাজ ও নিয়ম-কানুন
প্রকৃত অর্থে শবে বরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ নেই। তবে এ রাত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করার জন্য হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
এই রাতে মাগরিব নামাজের পর হায়াতের বরকত, ঈমানের হেফাজত এবং অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়ার নিয়তে দুই রাকাত করে মোট ছয় রাকাত নফল নামাজ আদায় করা উত্তম।
এই ছয় রাকাত নফল নামাজের নিয়ম হলো—প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যেকোনো একটি সূরা পড়তে হবে। দুই রাকাত নামাজ শেষ করে সূরা ইয়াসিন বা সূরা ইখলাস ২১ বার তিলাওয়াত করা যেতে পারে।
শবে বরাতের নফল নামাজসমূহ
দুই রাকাত তাহিয়াতুল অজুর নামাজ
নিয়ম: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১ বার আয়াতুল কুরসি ও ৩ বার সূরা ইখলাস।
দুই রাকাত নফল নামাজ
নিয়ম: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১ বার আয়াতুল কুরসি ও ১৫ বার সূরা ইখলাস। সালাম ফিরানোর পর ১২ বার দরুদ শরিফ।
ফজিলত: রিজিকে বরকত, দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি এবং গুনাহ মাফ হয়।
আট রাকাত নফল নামাজ (দুই রাকাত করে)
নিয়ম: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ৫ বার সূরা ইখলাস।
ফজিলত: গুনাহ থেকে পবিত্রতা, দোয়া কবুল ও অধিক নেকি লাভ।
বারো রাকাত নফল নামাজ (দুই রাকাত করে)
নিয়ম: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১০ বার সূরা ইখলাস। নামাজ শেষে ১০ বার কালেমা তাওহিদ, ১০ বার কালেমা তামজিদ ও ১০ বার দরুদ শরিফ।
চৌদ্দ রাকাত নফল নামাজ (দুই রাকাত করে)
নিয়ম: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যেকোনো একটি সূরা।
ফজিলত: দোয়া কবুল হয়।
চার রাকাত নফল নামাজ (এক সালামে)
নিয়ম: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ৫০ বার সূরা ইখলাস।
ফজিলত: সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো গুনাহমুক্ত হয়।
আট রাকাত নফল নামাজ (এক সালামে)
নিয়ম: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১১ বার সূরা ইখলাস।
ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত আছে, হযরত সৈয়্যিদাতুনা ফাতিমা (রা.) বলেছেন—এই নামাজ আদায়কারীর জন্য আমি সুপারিশ না করা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করব না।
রোজার ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, শাবান মাসে একদিন রোজা রাখলে তার জন্য আমার শাফাআত রয়েছে। অন্য এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি শাবানের ১৫ তারিখে রোজা রাখবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।
এছাড়াও সালাতুত তাসবিহ আদায় করা যেতে পারে। এ নামাজের ফজিলত অত্যন্ত বেশি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর চাচা হযরত আব্বাস (রা.)-কে এ নামাজ শিক্ষা দিয়ে বলেন, এ নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা আপনার আগের ও পরের, ছোট ও বড়, জানা ও অজানা সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, যদি সম্ভব হয় প্রতিদিন একবার পড়বেন, না পারলে সপ্তাহে একবার, না পারলে মাসে একবার, না পারলে বছরে একবার। যদি তাও না পারেন, তবে জীবনে অন্তত একবার হলেও এই নামাজ আদায় করবেন।
শবে বরাতের নামাজের নিয়ত
আরবি নিয়ত:
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতি লাইলাতিল বারাআতি নাফলি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শরিফাতি আল্লাহু আকবার।
বাংলা নিয়ত:
“শবে বরাতের দুই রাকাত নফল নামাজ কিবলামুখী হয়ে আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।”
সতর্কতা
মনে রাখতে হবে, ফরজ নামাজ নফলের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নফল নামাজ পড়তে গিয়ে যেন ফরজ নামাজ ছুটে না যায়। ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ফজরের নামাজ কাজা হওয়া অত্যন্ত ক্ষতির বিষয়। উত্তম হলো নফল নামাজ শেষ করে বিতর আদায় করা এবং সময়মতো ফজরের নামাজ পড়া। ঘুমালেও সমস্যা নেই, তবে ফজরের নামাজ যেন আদায় করা হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
নিউজ ডেস্ক 















