ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৌশলে স্কটল্যান্ডকে ‘বিশ্বকাপ’ থেকে বাদ দিল পাকিস্তান

  • নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 14
হারারেতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে পাকিস্তান। তবে ম্যাচটি শেষ হয়েছে এমনভাবে, যাতে পাকিস্তানের জয়ের সঙ্গে টুর্নামেন্টের হিসাবও বদলে যায়। লক্ষ্য তাড়ায় গতি কমিয়ে পাকিস্তান এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে জিম্বাবুয়ে উঠে যায় সুপার সিক্সে, আর বাদ পড়ে স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ সি’তে স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ছিল সমান।

নেট রান রেটের হিসাবে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে সুপার সিক্সে যায় জিম্বাবুয়ে। স্কটল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত হয় এখানেই। 

এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে দেয় ১২৯ রানের লক্ষ্য। হিসাব অনুযায়ী পাকিস্তান যদি ২৫.২ ওভারের মধ্যে লক্ষ্য পেরিয়ে জিততে পারত, তাহলে জিম্বাবুয়ের জায়গায় স্কটল্যান্ড উঠত।

১৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ছিল ৮৪। তখন জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪৫ রান, হাতে ছিল ১১ দশমিক ২ ওভার। কিন্তু ওই জায়গা থেকেই আচমকা ধীরে খেলা শুরু করে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁতে তাদের লাগে ২৬.২ ওভার।
 

টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সুপার সিক্সে গ্রুপ পর্বের সব পয়েন্ট যোগ হলেও কেবল পরের রাউন্ডে ওঠা দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলোই হিসাব হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই নিয়ম মাথায় রেখেই পাকিস্তান রান তাড়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। কারণ, জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে উঠলে তাদের বিপক্ষে পাকিস্তানের বড় ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটি পরের রাউন্ডে কাজে লাগবে, আর নেট রান রেটও সুবিধাজনক থাকবে।

ধারাভাষ্যে থাকা সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও এটিকে ‘হিসাবি’ কৌশল হিসেবে দেখেছেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা তাদের জন্য যুক্তিসংগত কৌশল ছিল।

জিম্বাবুয়ে উঠলে পাকিস্তানের নেট রান রেট ভালো থাকে। তাই আগে নিশ্চিত করেছে তারা হারবে না, এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে গতি কমিয়েছে।’ 

পরিসংখ্যানও আলোচনা বাড়িয়েছে। ১৪ ওভারের পরের ১২ ওভারে পাকিস্তান করে মাত্র ৩৬ রান। ৮৯ বলের মধ্যে কোনো বাউন্ডারি ছিল না। জিম্বাবুয়ের সুপার সিক্স নিশ্চিত হওয়ার পরই আবার গতি বাড়ায় পাকিস্তান। জয়ের জন্য যখন লাগে ৯ রান, তখন সামের মিনহাস টানা দুই ছক্কায় ম্যাচ শেষ করেন। তিনি অপরাজিত ৭৪ রান করে ম্যাচসেরাও হন।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানের ধীরগতির ব্যাটিং যদি প্রমাণিতভাবে ইচ্ছাকৃত হয়, তাহলে তা কি আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.১১ ধারায় ‘অযথা কৌশলগত কারণে ম্যাচ প্রভাবিত করার চেষ্টা’কে লেভেল ২ অপরাধ বলা হয়েছে। তবে সেটি প্রমাণ করা কঠিন।

এই ম্যাচের ফলে আরেকটি প্রভাব পড়েছে ইংল্যান্ডের হিসাবেও। স্কটল্যান্ড বাদ পড়ায় ইংল্যান্ডের বড় ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটি সুপার সিক্সের নেট রান রেটের হিসাবে থাকছে না, ফলে তারা বাড়তি সুবিধা হারিয়েছে।

এ ধরনের কৌশলের নজির অবশ্য আগে আছে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রান তাড়ার সময় স্টিভ ওয়াহও সুপার সিক্সের হিসাব মাথায় রেখে একই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কৌশলে স্কটল্যান্ডকে ‘বিশ্বকাপ’ থেকে বাদ দিল পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০১:০৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
হারারেতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে পাকিস্তান। তবে ম্যাচটি শেষ হয়েছে এমনভাবে, যাতে পাকিস্তানের জয়ের সঙ্গে টুর্নামেন্টের হিসাবও বদলে যায়। লক্ষ্য তাড়ায় গতি কমিয়ে পাকিস্তান এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে জিম্বাবুয়ে উঠে যায় সুপার সিক্সে, আর বাদ পড়ে স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ সি’তে স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ছিল সমান।

নেট রান রেটের হিসাবে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে সুপার সিক্সে যায় জিম্বাবুয়ে। স্কটল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত হয় এখানেই। 

এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে দেয় ১২৯ রানের লক্ষ্য। হিসাব অনুযায়ী পাকিস্তান যদি ২৫.২ ওভারের মধ্যে লক্ষ্য পেরিয়ে জিততে পারত, তাহলে জিম্বাবুয়ের জায়গায় স্কটল্যান্ড উঠত।

১৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ছিল ৮৪। তখন জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪৫ রান, হাতে ছিল ১১ দশমিক ২ ওভার। কিন্তু ওই জায়গা থেকেই আচমকা ধীরে খেলা শুরু করে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁতে তাদের লাগে ২৬.২ ওভার।
 

টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সুপার সিক্সে গ্রুপ পর্বের সব পয়েন্ট যোগ হলেও কেবল পরের রাউন্ডে ওঠা দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলোই হিসাব হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই নিয়ম মাথায় রেখেই পাকিস্তান রান তাড়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। কারণ, জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে উঠলে তাদের বিপক্ষে পাকিস্তানের বড় ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটি পরের রাউন্ডে কাজে লাগবে, আর নেট রান রেটও সুবিধাজনক থাকবে।

ধারাভাষ্যে থাকা সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও এটিকে ‘হিসাবি’ কৌশল হিসেবে দেখেছেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা তাদের জন্য যুক্তিসংগত কৌশল ছিল।

জিম্বাবুয়ে উঠলে পাকিস্তানের নেট রান রেট ভালো থাকে। তাই আগে নিশ্চিত করেছে তারা হারবে না, এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে গতি কমিয়েছে।’ 

পরিসংখ্যানও আলোচনা বাড়িয়েছে। ১৪ ওভারের পরের ১২ ওভারে পাকিস্তান করে মাত্র ৩৬ রান। ৮৯ বলের মধ্যে কোনো বাউন্ডারি ছিল না। জিম্বাবুয়ের সুপার সিক্স নিশ্চিত হওয়ার পরই আবার গতি বাড়ায় পাকিস্তান। জয়ের জন্য যখন লাগে ৯ রান, তখন সামের মিনহাস টানা দুই ছক্কায় ম্যাচ শেষ করেন। তিনি অপরাজিত ৭৪ রান করে ম্যাচসেরাও হন।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানের ধীরগতির ব্যাটিং যদি প্রমাণিতভাবে ইচ্ছাকৃত হয়, তাহলে তা কি আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.১১ ধারায় ‘অযথা কৌশলগত কারণে ম্যাচ প্রভাবিত করার চেষ্টা’কে লেভেল ২ অপরাধ বলা হয়েছে। তবে সেটি প্রমাণ করা কঠিন।

এই ম্যাচের ফলে আরেকটি প্রভাব পড়েছে ইংল্যান্ডের হিসাবেও। স্কটল্যান্ড বাদ পড়ায় ইংল্যান্ডের বড় ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটি সুপার সিক্সের নেট রান রেটের হিসাবে থাকছে না, ফলে তারা বাড়তি সুবিধা হারিয়েছে।

এ ধরনের কৌশলের নজির অবশ্য আগে আছে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রান তাড়ার সময় স্টিভ ওয়াহও সুপার সিক্সের হিসাব মাথায় রেখে একই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।