ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের পর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নাম চলে এসেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আজকে আমার কর্মীদের বলে যেতে চাই, আমার সমস্ত চরিত্র সারা জীবনের অর্জন। আমি আমার জীবনে সৎ ছিলাম, সৎ আছি। আমার সততার পরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
রাজধানিতে রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরেরপুল এলাকায় ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালানোর পর পুলিশ রাজধানীর মতিঝিলের চারটি ক্লাবে অভিযান চালায়৷ যার মধ্যে ছিল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব অবৈধ অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনির এই তৎপরতা চলছে।অভিযানে বেরিয়ে আসছে অনেক রাঘব বোয়ালদের নাম।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ওয়ার্কার্স পার্টির দশম কংগ্রেস শুরু হয়েছে। কংগ্রেসে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন মেনন।

তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলছে। আজ আমি যেহেতু ঢাকা-৮ আসনের এমপি, সেই আসন ঘিরেই ক্যাসিনো নিয়ে তোলপাড়। মিথ্যা সূত্র উদ্ধৃতি দিয়ে আজকে পত্রিকায় কথা বলা হচ্ছে।

২০১২ সালে মন্ত্রিত্বের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানান ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সময়ে যখন দেশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ঘটেছিল, সেই বিশেষ বাস্তবতায় স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির সঙ্গে পার্টির ঐক্য গড়ে ওঠে। তখন রাজনৈতিক প্রয়োজনে পার্টি মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেছিল। এটা ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কারও একক সিদ্ধান্ত নয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। সেই বাস্তবতা এখনো শেষ হয়নি। দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নে দেশের সব মানুষ ভাগীদার হয়নি। কিছু মুষ্টিমেয় মানুষদের হাতে প্রচুর অর্থবিত্ত হয়েছে। তারাই অর্থ বিদেশে পাচার করছে

উল্লেখ্য,রাশেদ খান মেনন বামপন্থী সংশোধনবাদী ধারার রাজনৈতিক নেতা। ২০০৮ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচিত সভাপতি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় মন্ত্রী সভায় ডাক ও তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ নির্বাচনে তিনি ঢাকা থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

Sites