জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠ ভাবে হয়নি এ দাবি বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন সময় উঠেছে।বিরোধি দলের অভিযোগের অন্যতম ইস্যু হল জাতীয় নির্বাচন। দেশের প্রধান এবং বৃহৎ বিরোধি দল বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর অভিযোগের শেষ নেই একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে এই অভিযোগ শুধু যে বিরোধি দলের তা নয় বরং সরকার দলিয় ব্যক্তিরাও এই কথায় সায় দিচ্ছেন। ১৪ দলের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খানও এমনটাই বললেন



।তবে এবার একই সুরে কথা বললেন খোদ মেনন। তিনি সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ’গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ ভোট দিতে পারেনি।’

শনিবার দুপুরে বরিশাল নগরীর টাউন হলে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-৮ আসনের এই সাংসদ বলেন, ’গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিও নির্বাচিত হয়েছি। তারপরও আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি পরবর্তীতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেনি দেশের মানুষ।’

সরকারের বিরুদ্ধে অন্যায়, অপকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মেনন বলেন, ’উন্নয়ন মানে গণতন্ত্র হরণ নয়। উন্নয়ন মানে ভিন্ন মতের সংকোচন নয়। উন্নয়ন মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ নয়। উন্নয়ন মানে গণতন্ত্রের স্পেস কমিয়ে দেওয়া নয়।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ’আপনি-আমি মিলে যে ভোটের জন্য লড়াই করেছি, আজিজ কমিশনকে ঘেরাও করেছি, আমরা এক কোটি ১০ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকা ছিঁড়ে ফেলে নির্বাচন বর্জন করেছি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরও। আজকে কেন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারছে না?’

আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’ক্যাসিনো মালিকদের ধরা হচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের ধরা হচ্ছে, কিন্তু দুর্নীতির আসল জায়গা নির্বিঘ্ন আছে। সেই দুর্নীতিবাজদের বিচার কবে হবে, তাদের সাজা কবে হবে, তাদের সম্পদ কবে বাজেয়াপ্ত হবে?’

জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি নজরুল হক নিলুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন কমরেড আনিছুর রহমান মল্লিক।

আরও বক্তব্য দেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাবেক এমপি টিপু সুলতান, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শান্তি দাস, জেলার সম্পদকমণ্ডলীর সদস্য বিশ্বজিৎ বাড়ৈ, ফাইজুল হক বালী ফারাইন, জেলা গণফোরাম সভাপতি হিরন কুমার দাস মিটু, সিপিবির প্রবীণ নেতা আব্দুল মন্নান প্রমুখ।

উল্লেখ্য,রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের একজন বামপন্থী সংশোধনবাদী ধারার রাজনৈতিক নেতা ২০০৮ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচিত সভাপতি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় মন্ত্রী সভায় ডাক ও তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ নির্বাচনে তিনি ঢাকা থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

Sites