নিজের সম্পদ নিয়ে শেষের দিকে উদ্বেগাকুল অবস্থায় ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সম্পদের নিরাপত্তায় জিডিও করেছিলেন তিনি।হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কত টাকার সম্পত্তি রেখে গেছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই কারও কাছেই; কোন সম্পত্তি তিনি কাকে দিয়ে গেছেন, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।তবে মৃত্যুর আগে শোনা গিয়েছিল তার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি একটি ট্রাস্টকে দান করেছেন তিনি


সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ দম্পতির সন্তান রাহগির আলমাহি এরশাদ (সাদ)। এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের (সদর) উপনির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারই সন্তান সাদ। জাতীয় পার্টির (জাপা) হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া সাদ বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন।

হলফনামা থেকে জানা যায়, সাদ এরশাদ চাকরি ও ব্যবসা করেন না; সর্বোপরি বছরে তার আয় শূন্য। তবে তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৪৩৯। বৈদেশিক মুদ্রাও রয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ২৯১।

এ বিষয়ে সাদ এরশাদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হলফনামায় সাদ এরশাদ শপথ করেছেন, ’এই হলফনামায় প্রদত্ত যাবতীয় তথ্য এবং এ সঙ্গে দাখিল করা সব দলিল দস্তাবেজ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে সম্পূর্ণ সত্য ও নির্ভুল।’

হলফনামার প্রার্থীর বার্ষিক আয়ের উৎস থেকে জানা যায়, কৃষি, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসা/অন্যান্য, শেয়ার/সঞ্চয়/ব্যাংক আমানত, পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি), চাকরি ও অন্যান্য– এ সাতটি খাতের একটি থেকেও সাদ এরশাদের কোনো আয় আসে না।



ফলে তার আয়ের উৎস কী, তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সাদ এরশাদ স্নাতক পাস করেছেন। থাকেন রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে।

হলফনামা থেকে জানা যায়, সাদ এরশাদের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৪৩৯ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ২ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ২৯১, পোস্টাল, সেভিংস, সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ/মানি ডিপোজিট ৬০ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকার ৫ হাজার টাকা।

তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের কৃষিজমি, ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের দালান আবাসিক/বাণিজ্যিক, ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

হলফনামায় তার অকৃষি জমি ও যানবাহনের মূল্য ’অজানা’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। মায়ের কাছে ১ লাখ এবং ৬ লাখ টাকা অগ্রিম ভাড়ার দায় বা দেনা রয়েছে সাদ এরশাদের।

৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে


উল্লেখ্য,হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দেশ পরিচালনাকে অনেকেই সামরিক একনায়তন্ত্রের সাথে তুলনা করেন।তিনি জাতীয় পার্টি নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে বেশ কিছু উপদলে বিভক্ত হয়।

Sites