রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের একজন বামপন্থী সংশোধনবাদী ধারার রাজনৈতিক নেতা। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচিত সভাপতি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় মন্ত্রী সভায় ডাক ও তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ নির্বাচনে তিনি ঢাকা থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।




সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, এ দেশে এখন উন্নয়নের নামে চলছে হরিলুট। যাদের রাজনীতির কারণে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ছিন্ন-ভিন্ন করে কুখ্যাত সাঈদীরা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের দ্বারা দেশ নিরাপদ নয়, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির ধারা পরিবর্তন করতে আমরা ওয়ার্কাস পার্টি ঐক্যবদ্ধ রয়েছি।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দেয়া হয়েছে, কিন্তু মাদকের মূল হোতাদের না ধরলে কোনদিনই দেশ থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব না। দুর্নীতি দূর না করলে কোন দিনই এ দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তিনি রোববার দুপুরে পিরোজপুরে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্মেলনে এ সব কথা বলেন।



জেলা শিল্পকলা একডেমি মিলনায়তনে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক খান মো. রুস্তুম আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নীলু, ভান্ডারিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার, জেলা ১৪ দলের পক্ষে জেলা জাসদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ডালিম, চন্দ্র শেখর হালদার, মঠবাড়িয়ার তরিকুল ইসলাম, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব রতন চক্রবর্তী প্রমুখ।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, অথচ আজ এ দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। আর এসব কিছু হয়েছে এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের পরিশ্রমের ফলে। অথচ সেই কৃষক আজ তার ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না।

নারী জাগরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মেয়েরা গার্মেন্টেসে কাজ করে, বিদেশে গৃহ পরিচারিকার কাজ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের উন্নয়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মেনন বলেন, দেশের মাত্র ১০ ভাগ লোক উন্নয়নের ফল ভোগ করছে, আর সাধারণ মানুষ রয়েছে বঞ্চিত।

তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই, বৈষম্য চাই না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তাই ১০ শতাংশ ২ শতাংশ নয় সাড়া দেশের মানুষ জাতে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান রাশেদ খান মেনন।


প্রসঙ্গত,ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। তিনি চীনপন্থী রাজনীতিতে দীক্ষিত এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ভাবশিষ্য। ষাটের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন বিরোধী ও পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন

Sites