দেশে যেভাবে বিভিন্ন জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটছে এবং ধারাবাহিকভাবে ছাত্রলীগের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন যোগসাজশ পাওয়া যাচ্ছে সেটা নিয়ে মানুষের মধ্যে এরকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি ঘটে গেল সিলেটের এমসি কলেজে একটি দুঃখজনক ঘটনা সেখানেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা ছিল এবং পরবর্তীতে যে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয় দেশের জাতীয় চিহ্ন গুলির ঘটনাটি সেখানেও ক্ষমতাসীনদলের ট্যাগ লাগিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এমন একজনের সন্ধান মিলেছে


যেকোন আন্দোলন মানেই গুজবের মহোৎসব। গতকাল সারাদিন ফেসবুকজুড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নামে একটা ভুয়া চিঠি এবং ফটোশপ করা কয়েকটা পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হলো। আমার প্রশ্ন হলো এগুলো কার উর্বর মস্তিষ্ক থেকে আসে?

ডাকসু নির্বাচনের আগেও একটা ভুয়া প্রেসরিলিজ ভাইরাল করা হয়েছিলো। তখনও আ/প/ত্তি করেছিলাম। বলেছিলাম এসব করে বরং নূরকেই হাইলাইট করা হচ্ছে। হয়েছিলোও তাই। শেষপর্যন্ত নূরই ডাকসুর ভিপি হলো।

বেগম খালেদা জিয়ার নাতনী জাইমা রহমানকে নিয়ে দুইদিন পর পর ভুয়া ভিডিও বানানো হয়। ফেক নিউজ করানো হয়। সেইসব ভিডিও এবং নিউজ লিংক ওয়ালে ওয়ালে ঘুরে বেড়ায়। বিভিন্ন পেজ খুলে এগুলো আবার বুস্টও করা হয়। দেখি আর ঘেন্না লাগে। এত সস্তা মানসিকতা; এগুলো যে ফেক সেটা দুধের শিশুও বোঝে। কার বুদ্ধিতে, কার ম/দ/দে এসব ফালতু কাজ করা হয়?
দেশব্যা/পী ধ/র্ষ//ণ/বি/রো/ধী যে/ সেন্টিমেন্ট সেটাকে আমি শ্রদ্ধা করি, ধারণ করি, সমর্থন করি। সরকার বিরোধিতা নাকি ন্যায়বিচার? সব পজিটিভ ব্যাপারগুলোই তিতা বানিয়ে ফেলে একটা বিশেষ গোষ্ঠী। যেকোন ভালো উদ্যোগকেই এরা নিজেদের এজেন্ডা সেটিংয়ে নিয়ে যায় তারা। এতে তাদের লাভের হিসেব মিললেও একটা ভালো সম্ভাবনা শেষপর্যন্ত মাঠে মারা যায়।

/ধ/র্ষণ//বি///রো/ধী /স/মাবেশ থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা যে /ধৃ/ষ্ঠ/তা দেখিয়েছে দেশবাসী ইতিমধ্যেই তাদেরকে বয়কট করেছে। একটা শুভ উদ্যোগকে বিতর্কিত করার জন্য তাদেরকে ধিক্কার জানিয়েছে। ফটোশপ করা পোস্টার ভাইরাল করে বরং তাদের পাপটাকে হালকা করা হলো।

র‌্যাব সদস্যদের সাথে কালপ্রিট দেলোয়ারের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। চাপে পড়ে র‌্যাব ১১ এই ছবিটার একটা ব্যাখাও দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, /মৃ/ত্যু/ভ/য়ে/ /ভী/ত দে/লোয়ারকে স্বাভাবিক করতে এবং দেলোয়ারের আস্থা অর্জনের জন্য তারা এই সেলফি তুলেছে। আচ্ছা এবার আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেন তো। র‌্যাবের মোবাইলে তোলা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় কিভাবে? আমাদের পরিমিতিবোধের এত অভাব!

প্রতিদিন ইনবক্সে ডজনে ডজনে লিংক পাই। কেউ কেউ আবার লিংকের সাথে লিখে পাঠায়- ভাইরাল করুন। আমি এমন ম্যাসেজ দাতাদের নাম দিয়েছি ভাইরাল ভাইবোন। এই ভাইরাল ভাইবোনেরা বুঝে আবার কখনো বা না বুঝেই গুজব ছড়ায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এদের অধিকাংশই নিজেদের টাইমলাইনে এগুলো শেয়ার করে না। কোনকিছু পোস্ট বা শেয়ার করার আগে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হোন। কারো ফাঁদে পা দেবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার আ/গ্রা/সনের যুগে অনেক সময়ই আপনার টাইমলাইন আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচয় হয়ে ওঠে। তাই আগে যাচাই করুন তারপর শেয়ার করুন।

আমি অনেক বড় বড় মানুষদেরকেও দেখেছি নিজের টাইমলাইনে ভুয়া লিংক শেয়ার করতে। অনেক মন্ত্রী এমপিও না বুঝেই এমন নিউজ লিংক শেয়ার করেন পরবর্তীতে সেটা গুজব হিসেবে প্রতীয়মান হয়। আমাদের অধিকাংশ লোকজনের মধ্যে এক ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। নিজের সংক্রান্ত যেকোন পজিটিভ নিউজ হলেই হলো। সত্য কি মিথ্যা একবারও যাচাই করেন না। নিজে এবং নিজের অনুসারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে শেয়ার করা শুরু করে দেন। দুই একটা উদাহরণ দিই।

১. প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে ওমুক ওমুক...

২. মন্ত্রীসভায় রদবদল; আসছে নতুন মুখ। আলোচনায় যারা...

৩. সবচেয়ে সফল মন্ত্রী যারা ... ( ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রীর চামচাবাহিনী ভিন্ন ভিন্ন লিংক শেয়ার করেন; যেখানে তার মন্ত্রীই এক নম্বরে থাকেন)

এমন ডজন ডজন কাহিনী রয়েছে। মেধাহীন, কমিটমেন্টহীন একপাল লোভী শঠ নেতা তৈরি হচ্ছে। এরাই বিভিন্ন চেয়ারগুলো দখল করছে। একটা /অ/মা/ন/বি/ক ‌,/অ/স/হি/ষ্ণু, লোভী, /প/র/শ্রী/কা/ত/র জাতিরাষ্ট্রের সব ধাপ পার করছি আমরা।

নোয়াখালীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি পর থেকেই দেশে এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে কারণে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা সহ সাধারন মানুষ সেই সাথে এধরনের ঘটনা থেকে সমাজের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিবে এবং দ্রুত এগুলোর বিচার না করলে পরবর্তীতে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে তাই সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি সেটি হচ্ছে দ্রুত এগুলোর বিচার কার্যক্রম শুরু করে

Sites