সম্প্রতি জি কে জি হেল্প কেয়ার চেয়ারম্যান আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডক্টর সাবরিনা চৌধুরী কে নিয়ে এখন আলোচনা-সমালোচনা সর্বত্র বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন করে তিনি যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন এতদিন থেকে সেগুলো আস্তে আস্তে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে এবং তার এই সকল কর্মকান্ডে মানুষ হতবাক এতদিন মানুষটাকে যেভাবে চিন্তা অনলাইন ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে যেভাবে তাকে দেখে এসেছে তার পুরোটাই আসলে ভিন্ন এছাড়াও এই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনেক উঠে আসছে গণমাধ্যমগুলোতে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ও তাকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই


আমাদের সমাজে নারীদের যে কেবল ভোগের বস্তু মনে করেন বেশিরভাগ পুরুষ তা আবারও প্রমাণ হল সাবরিনার ঘটনায়৷ সাবরিনা আরিফ চৌধুরী পেশায় একজন হৃদরোগ সার্জন৷ টেলিভিশনের পরিচিত মুখ৷ টকশোতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন৷ কিন্তু করোনার নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার এই পরিচয়গুলো ছাপিয়ে নারী হিসেবে তিনি কতটা আকর্ষণীয় তাই যেনো প্রধান হয়ে উঠেছে৷ অর্থাৎ একদল মানুষ তার সৌন্দর্য্যকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ’ভার্চুয়াল ভোগ’ করছেন৷

হ্যাঁ তিনি সুন্দর৷ ছবি তুলতে এবং আপলোড করতে ভালোবাসেন৷ এটাই কি তার দোষ? তিনি যে দোষে দুষ্ট সেটাকে নিয়ে অনেক কথা হতে পারে, যে অন্যায় তিনি করেছেন সেসব বিষয়ে অভিযোগ উঠতে পারে৷ কিন্তু একজন নারী বলে তার ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরে তাঁকে হেয় করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে?

কোন অল্প শিক্ষিত পুরুষ কিন্তু এসব করছেন না৷ করছেন শিক্ষিতরাই৷ এমন কি পিছিয়ে নেই গণমাধ্যমগুলো৷ কে এই সাবরিনা? তিনি সিনেমার নায়িকা হওয়ার জন্য কত দুয়ার ঘুরেছিলেন? তার স্বামীর কয়টা বিয়ে? তিনি কবে কোথায় কার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলেন তাই নিয়ে গণমাধ্যমে রীতিমত মাতামাতি৷

এ ধরনের ঘটনায় যখন কোন পুরুষ অভিযুক্ত হন, তখন কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেটে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয় না৷ আমাদের সমাজে এই শব্দগুলো বলা বারণ, এই কাজগুলোও লুকিয়ে করতে হয়, তাই গুগলে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা শব্দ ৷ আর এই অবদমিত যৌন ইচ্ছের বলি হন সমাজের সাবরিনারা৷


সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাবরিনাকে নিয়ে অজস্র স্ট্যাটাস৷ অনেকে সংবাদও শেয়ার করেছেন৷ সেগুলোর মন্তব্যের ঘরে কেউ লিখেছেন, ’’নীল ছবির স্টারের মত লাগে, একে .. করলে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে এছাড়া ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এমন গালাগালি৷’’

একজন নারীর চেহারা দেখেই যদি আমাদের সমাজের ও গণমাধ্যমের ভিন্নভাবে তাকে উপস্থাপনের ইচ্ছে হয়, তাহলে বলতেই হবে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলান৷ সাবরিনাকে নারী হিসেবে না দেখে একজন মানুষ হিসেবে দেখুন৷ আর যদি সাবরিনার সাজগোজ বা ছবি আপলোডে আপনাদের সমস্যা হয়, তাহলে তার ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্ট না করে চোখে ঠুলি পরে থাকুন৷ এটাই সবচেয়ে বড় সমাধান৷


ডক্টর সাবিনা চৌধুরীকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কোন কমতি নেই গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া সবখানে তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা ট্রল নিজের কর্মকান্ডের জন্য তাকে বিভিন্ন ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে এবং সেই সাথে উঠে আসছে তার ব্যক্তিগত জীবনের নানাদিক তার বিভিন্ন শখ এবং ব্যক্তিগত অনেক বিষয় নিয়ে মানুষ কথা বলতে শুরু করেছেন তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ তার নেতিবাচক সমালোচনা করলেও অনেক ক্ষেত্রে অনেকেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলাটা তেমন একটা যৌক্তিক মনে করছেন না

Sites