আইন রক্ষাকারী বাহিনীর হচ্ছে জনগণের বন্ধু জনগণের সার্বিক নিরাপত্তার কথা জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব তাদের। তাদের বিপদে এগিয়ে আসার এবং সার্বিক সহযোগিতা করার জন্যই সরকার তাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছে। তবে বাংলাদেশের আইন রক্ষাকারী বাহিনী দের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার যেন শেষ নেই। অনেক সময় দেখা যায় বিতর্কিত কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



ক্রসফায়ারই যদি সমাধান হয়, তাহলে আইন প্রণেতারা সংসদে বসে কী করবেন? ক্রসফায়ার আসলে কী? সাধারণত আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্রিফিংয়ে ক্রসফায়ারের যে বর্ণনা শুনি, তা তো আসলে অনিচ্ছাকৃত কিন্তু অপারগ হয়ে গুলি করতে বাধ্য হওয়া। তাই নয় কি? কিন্তু বাস্তবতা হাঁটছে উল্টো পথে। ক্রসফায়ার আসলে যে ক্রসফায়ার নয়, এটা যে আমাদের দেশে বিচার বহির্ভূত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে কথা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। নইলে আমজনতা নাকডোবা দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণের মতো দুরাচার এর হাত থেকে রেহাই পেতে ক্রসফায়ার এর দাবি জানায় কেনো ??

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কখনো কখনো অপরাধীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখায়, যা খবরের কাগজে হরহামেশাই দেখি। এখন দেখছি খোদ পার্লামেন্ট মেম্বাররাও মহান সংসদে বসে ক্রসফায়ার এর কথা বলছেন! ওই মহান সংসদ প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। ওখানে বসে সময়োপযোগী ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা একজন আইন প্রণেতার কাজ। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা। একটি দেশে যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়, তখন জনগনকে সাময়িক চোখের আরাম দিতে শাসকরা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে স্বাগত জানায়। এটা রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতা ঢাকতে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।



আমাদের সমাজে মানুষের মধ্যে সহানুভূতি পারস্পরিকতা মূল্যবোধ যে জিনিসগুলো বিদ্যমান থাকার কথা আদতে তা নেই সমাজের শুধুই একে অন্যের ক্ষতি করার অভিপ্রায়। সাধারণ মানুষের সাথে সাথে আইন রক্ষাকারী বাহিনীর বর্তমান কাজের সমালোচনা করেন অনেকেই। দোষীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের তদনুযায়ী সাপেক্ষে শাস্তি দেওয়া এগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন অনেকে

Sites