সরকার বিতর্কিত নির্বাচনকে আড়াল করতেই একের পর এক শুভঙ্করের ফাঁকি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। মঙ্গলবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে, আর প্রত্যেক ঘটনায় দেখা যায় সরকারি পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন থেকে মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়ার জন্যই এতকিছু হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাও পিলখানা হত্যা দিবসকে আড়ালের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নিলুফার চৌধুরী বলেন, চকবাজারের অগিকাণ্ডের ঘটনায় মারা গেছে কতজন, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কেউ স্পষ্টভাবে বলতে পারেনি। নিউইয়র্ক টাইমস থেকে জানলাম ১১০ জন, আর আমাদের পত্রিকাগুলো বলছে ৮০ জন ছাড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা কেড়ে নিতে প্রতিযোগিতা করে, কিন্তু তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি হয়নি।
নিলুফার আরো বলেন, চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিল্পমন্ত্রী বললেন, ওখানে কোনো কেমিক্যাল এর গোডাউন ছিলো না। অথচ সবাই জানে, ওখানে কেমিক্যাল এর গোডাউন ছিলো। এরপর ডিএমপি পুলিশ থেকে বলা হলো, ওই এলাকায় থাকা একাধিক কেমিক্যাল গোডাউনের কারণে খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপ থেকে বলা হলো, একটি সিনএনজি বহনকারী পিকআপ ট্রাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পরপর গোডাউনের দোকানে আগুন লেগে যায়, ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওদিকে ফায়ার সার্ভিস পরিচালক লেফট্যানেন্ট জেনারেল জুলফিকার রহমান বললেন, ওয়াহিদ ম্যানশনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিলো। কারো সঙ্গে কারো কথার মিল নেই। এরপর তথ্যমন্ত্রী বললেন, খুঁজে দেখতে হবে, এ ঘটনায় বিএনপির যোগসাজশ আছে কি না। বলা হলো যে, গাড়ির সিলিন্ডার থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে। দুই দিন পরে কিন্তু আমরা ছবিতে দেখলাম, ওই সিলিন্ডার অক্ষত আছে এখনো। নিলুফার চৌধুরী মনির মতে, এসব শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া অন্য কিছু নয়।
তিনি আরো বলেন, চকবাজারের ঘটনায় যখন মানুষের ক্ষোভ বেড়ে যাচ্ছিলো, তখনই দেখা গেলো কথিত বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা। আমরা জানি, পায়ে গুলি করলে মানুষ কতক্ষণ বেঁচে থাকে। ওই ব্যক্তি সত্যিকারের ছিনতাইকারী কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন মনি। যদি সত্যিই ছিনতাইকারী হতো, কাউকে না কাউকে হত্যা করতো। তাছাড়া সে একজন হতো না, তার সঙ্গে আরো কয়েকজন জড়িত থাকতো। অন্যদিকে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ভেদ করে ভেতরে অস্ত্র নেয়া বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটাকে সাজানো গল্প বলেই মনে করেন নিলুফার মনি। তার মতে, তদন্তের স্বার্থে তাকে বাঁচিয়ে রাখা উচিত ছিলো। মেরে ফেলার মাধ্যমে প্রমাণ হলো, বাংলাদেশে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়।
            সূত্র:আমাদের সময়

Sites