কেমিক্যাল গোডাউন ঢাকা শহর থেকে সরানোর দরকার নেই বরং শহরের মানুষ গুলো সরিয়ে বনজঙ্গলে নিয়ে যান। আর তাতে মানুষ নিরাপদ হবে; ঝামেলা চুকে যাবে। চকবাজারে যা ঘটেছে সেই ২০১০ সালে নিমতলীতে একই ঘটনা ঘটেছিল। তখন ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিলে চকবাজারে পুনরাবৃত্তি হতো না।
শত আঙ্গার হওয়া লাশ আর আমাদের দেখতে হতো না। নিমতলির মর্মান্তিক ঘটনার পর কেমিক্যাল গোডাউন গুলো সরানোর দাবি ওঠে। সরকারও নড়ে চড়ে বসে। শোক শেষ হলে বেমালুম ভুলে যায় সবাই। গোডাউন সরেনি বরং ফুলে ফেঁপে গোডাউনের সংখ্যা বেড়েছে।
লাইসেন্স দেয়া হয়েছে নতুনদের। তাই যা হবার তাই হয়েছে। ফের অঙ্গার হয়েছে মানুষ। মানুষের পোড়া হাড়, মাংসের গন্ধে গোটা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে। এবারের ঘটনাও সবাই ভুলে যাবে।
ভোলারাম বাঙালি বলে কথা! মানুষ শোক ভুলবে; সরকার দায়িত্ব ভুলবে। আবারও পাশের কোন গোডাউনে আগুন লাগবে। আবারও মানুষ মরে কয়লা-কাবাব হবে। মানুষের জীবনের কি আর দাম আছে? থাকলে ব্যস্ত এলাকা থেকে কবেই গোডাউন গুলো সরে যেত। নিমতলী ট্রাজেডির পর গোডাউন সরানোর প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ বছর সময় লাগতো না। এভাবে আবার মানুষ অঙ্গার হতো না। প্রকৃতপক্ষে এ দায় কার? এর সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারবে না। ব্যস্ত শহর থেকে কেমিক্যাল গোডাউন যখন সরানো যাচ্ছে না তখন বুদ্ধি একটা আছে। শহরের মানুষ গুলো সরিয়ে শহরের বাইরে কোন বন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হোক। মানুষ গুলোর জীবন নিরাপদ হবে। তাতে আগুন লাগলে কেমিক্যাল পুড়বে মানুষতো আর পুড়ে কয়লা হবে না। আসলে আমরা লজ্জাহীন জাতি। আমাদের বোধোদয় হয় না কখনো। দায়িত্বশীলরা দায়িত্ব পালন করে না কখনো। তাই আমরা লাশ হই রাস্তাঘাটে, বসত ঘরে কর্মস্থলে। কোথাও এক দণ্ড নিরাপত্তা নেই আমাদের।
কেরানীগঞ্জ বিসিক কেমিক্যাল পল্লীর কি খবর? পত্রিকান্তে জানলাম, আট বছরেও মেলেনি জমি। নিমতলী ট্র্যাজেডির পর প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১০ সালে কিন্তু অনুমোদন ২০১৮ সালে। পুরান ঢাকায় ছড়িয়ে আছে ৪ হাজার কেমিক্যাল গুদাম ও কারখানা। গিঞ্জি পুরনো ঢাকার শহরটাতে কেমিক্যাল কারখানা ভাবা কি যায়?
এটা বাংলাদেশেই সম্ভব। কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লী স্থাপনের জন্য আট বছরেও জমি অধিগ্রহণ হয়নি। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের পর গত জানুয়ারিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রকল্প পরিচালক। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। বরাদ্দ পেলে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।
নিমতলী থেকে চকবাজোরের চুড়িহাট্টার ট্র্যাজেডি পর্যন্ত কয়েক বছরে মন্ত্রী, মেয়র, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফায় দফায় গুদাম সরানোর ঘোষণা, আশ্বাস ও নির্দেশ দেন। সব নির্দেশ অকার্যকর ছিলো। পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা ৪ হাজার কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো ছিলো বহাল তবিয়তে। নিমতলির ঘটনার পর তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রী ক্যামিকাল গোডাউন গুলো শহর থেকে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন।
নিমতলীর ঘটনার সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন দিলীপ বড়ুয়া। সে সময় তিনি অবৈধ রাসায়নিক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো এবং এসব স্থানান্তরের কথা বললেও বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কিন্তু তিনি ব্যর্থতার দায় নিতে রাজি নন।
আসলে সবাই বড় বড় কথা বলেন কাজ করেন না। যে কাজে কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরব হন সেটাই বাস্তবায়ন হয় মাত্র। দেশকে মাদকমুক্ত করতে তাঁকে হুঙ্কার দিতে হয়। ভেজালের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকেই কথা বলতে হয়। তাহলে অন্যরা কি করেন?
আমরা সোচ্চার নই, প্রশাসন কঠোর নয় বলেই বার বার মর্মান্তিক ঘটনা দেশবাসীকে অবলোকন করতে হচ্ছে। ঢাকাকে বাসযোগ্য ও নিরাপদ করতে সোশ্যাল করপোরেট রেসপনসিবিলিটি যেভাবে গড়ে ওঠার কথা, তা সেভাবে হয়নি। আর যারা স্টেক হোল্ডার আছেন, তারাও সরকারকে বাধ্য করতে পারেননি। ভবন মালিকদেরও দায় আছে। তারা বেশি ভাড়া পাওয়ার জন্য গোডাউন (রাসায়নিকের জন্য) ভাড়া দেয় এবং ব্যাপারটি লুকিয়ে রাখে। রাসায়নিকের মজুতের সনদ দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনকেও আরও কঠোর হওয়া উচিত।
চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর একটা অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায়নি। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়নি। ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট করলে রাস্তাও প্রশস্ত হতো, আগুন নেভানোর পানিও পাওয়া যেত। অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়াতে পারতো।
মুষ্টিমেয় কিছু লোকের কারণে এটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। অথচ রিডেভেলপমেন্ট ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমরা আর কোন অস্বাভাবিক মৃত্যু চাই না। সরকার আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দিক।


সুত্র: জাগো নিউজ ২৪

Sites

কেমিক্যাল শহরেই থাকুক মানুষ সরিয়ে নিন: মীর আব্দুল আলীম
Logo
Print

মুক্তমত

 

কেমিক্যাল গোডাউন ঢাকা শহর থেকে সরানোর দরকার নেই বরং শহরের মানুষ গুলো সরিয়ে বনজঙ্গলে নিয়ে যান। আর তাতে মানুষ নিরাপদ হবে; ঝামেলা চুকে যাবে। চকবাজারে যা ঘটেছে সেই ২০১০ সালে নিমতলীতে একই ঘটনা ঘটেছিল। তখন ১২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিলে চকবাজারে পুনরাবৃত্তি হতো না।
শত আঙ্গার হওয়া লাশ আর আমাদের দেখতে হতো না। নিমতলির মর্মান্তিক ঘটনার পর কেমিক্যাল গোডাউন গুলো সরানোর দাবি ওঠে। সরকারও নড়ে চড়ে বসে। শোক শেষ হলে বেমালুম ভুলে যায় সবাই। গোডাউন সরেনি বরং ফুলে ফেঁপে গোডাউনের সংখ্যা বেড়েছে।
লাইসেন্স দেয়া হয়েছে নতুনদের। তাই যা হবার তাই হয়েছে। ফের অঙ্গার হয়েছে মানুষ। মানুষের পোড়া হাড়, মাংসের গন্ধে গোটা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে। এবারের ঘটনাও সবাই ভুলে যাবে।
ভোলারাম বাঙালি বলে কথা! মানুষ শোক ভুলবে; সরকার দায়িত্ব ভুলবে। আবারও পাশের কোন গোডাউনে আগুন লাগবে। আবারও মানুষ মরে কয়লা-কাবাব হবে। মানুষের জীবনের কি আর দাম আছে? থাকলে ব্যস্ত এলাকা থেকে কবেই গোডাউন গুলো সরে যেত। নিমতলী ট্রাজেডির পর গোডাউন সরানোর প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ বছর সময় লাগতো না। এভাবে আবার মানুষ অঙ্গার হতো না। প্রকৃতপক্ষে এ দায় কার? এর সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারবে না। ব্যস্ত শহর থেকে কেমিক্যাল গোডাউন যখন সরানো যাচ্ছে না তখন বুদ্ধি একটা আছে। শহরের মানুষ গুলো সরিয়ে শহরের বাইরে কোন বন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হোক। মানুষ গুলোর জীবন নিরাপদ হবে। তাতে আগুন লাগলে কেমিক্যাল পুড়বে মানুষতো আর পুড়ে কয়লা হবে না। আসলে আমরা লজ্জাহীন জাতি। আমাদের বোধোদয় হয় না কখনো। দায়িত্বশীলরা দায়িত্ব পালন করে না কখনো। তাই আমরা লাশ হই রাস্তাঘাটে, বসত ঘরে কর্মস্থলে। কোথাও এক দণ্ড নিরাপত্তা নেই আমাদের।
কেরানীগঞ্জ বিসিক কেমিক্যাল পল্লীর কি খবর? পত্রিকান্তে জানলাম, আট বছরেও মেলেনি জমি। নিমতলী ট্র্যাজেডির পর প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১০ সালে কিন্তু অনুমোদন ২০১৮ সালে। পুরান ঢাকায় ছড়িয়ে আছে ৪ হাজার কেমিক্যাল গুদাম ও কারখানা। গিঞ্জি পুরনো ঢাকার শহরটাতে কেমিক্যাল কারখানা ভাবা কি যায়?
এটা বাংলাদেশেই সম্ভব। কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লী স্থাপনের জন্য আট বছরেও জমি অধিগ্রহণ হয়নি। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের পর গত জানুয়ারিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রকল্প পরিচালক। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। বরাদ্দ পেলে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।
নিমতলী থেকে চকবাজোরের চুড়িহাট্টার ট্র্যাজেডি পর্যন্ত কয়েক বছরে মন্ত্রী, মেয়র, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফায় দফায় গুদাম সরানোর ঘোষণা, আশ্বাস ও নির্দেশ দেন। সব নির্দেশ অকার্যকর ছিলো। পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা ৪ হাজার কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো ছিলো বহাল তবিয়তে। নিমতলির ঘটনার পর তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রী ক্যামিকাল গোডাউন গুলো শহর থেকে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন।
নিমতলীর ঘটনার সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন দিলীপ বড়ুয়া। সে সময় তিনি অবৈধ রাসায়নিক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো এবং এসব স্থানান্তরের কথা বললেও বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কিন্তু তিনি ব্যর্থতার দায় নিতে রাজি নন।
আসলে সবাই বড় বড় কথা বলেন কাজ করেন না। যে কাজে কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরব হন সেটাই বাস্তবায়ন হয় মাত্র। দেশকে মাদকমুক্ত করতে তাঁকে হুঙ্কার দিতে হয়। ভেজালের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকেই কথা বলতে হয়। তাহলে অন্যরা কি করেন?
আমরা সোচ্চার নই, প্রশাসন কঠোর নয় বলেই বার বার মর্মান্তিক ঘটনা দেশবাসীকে অবলোকন করতে হচ্ছে। ঢাকাকে বাসযোগ্য ও নিরাপদ করতে সোশ্যাল করপোরেট রেসপনসিবিলিটি যেভাবে গড়ে ওঠার কথা, তা সেভাবে হয়নি। আর যারা স্টেক হোল্ডার আছেন, তারাও সরকারকে বাধ্য করতে পারেননি। ভবন মালিকদেরও দায় আছে। তারা বেশি ভাড়া পাওয়ার জন্য গোডাউন (রাসায়নিকের জন্য) ভাড়া দেয় এবং ব্যাপারটি লুকিয়ে রাখে। রাসায়নিকের মজুতের সনদ দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনকেও আরও কঠোর হওয়া উচিত।
চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর একটা অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায়নি। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়নি। ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট করলে রাস্তাও প্রশস্ত হতো, আগুন নেভানোর পানিও পাওয়া যেত। অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়াতে পারতো।
মুষ্টিমেয় কিছু লোকের কারণে এটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। অথচ রিডেভেলপমেন্ট ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমরা আর কোন অস্বাভাবিক মৃত্যু চাই না। সরকার আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দিক।


সুত্র: জাগো নিউজ ২৪
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.