বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হচ্ছে বাংলাদেশীদের গর্বের অন্যতম একটি জায়গা দেশের যেকোনো বিপদের সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছে অতীতেও এবং বর্তমান সময়ে তাদের সাধারণ মানুষের পাশে পাওয়া যায় এবং বাংলাদেশে যে বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচিত হয় সেটি হচ্ছে প্রশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই বিষয়গুলো থেকে একেবারেই ভিন্ন। দেশের প্রয়োজনে দেশের কল্যানে তারা নিবেদিতপ্রাণ এবং বর্তমান সময়ে চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও সেই নজির করে চলেছে তারা।
শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীরত্বের গল্প। জাতিসংঘের শান্তি মিশনের হয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের গর্বের বাহিনী। সেই সঙ্গে মাথা উঁচু করে তুল ধরেছে বাংলাদেশের পতাকা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীরত্ব ও পেশাদারিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন কানাডার সামরিক সচিব যিনি পরর্বতীতে ন্যাটোর সামরিক সচিব হন। নিজ চোখে দেখা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘুমন্ত পারমাণবিক হিসেবে উপাধি দিয়েছিলেন তিনি। এমনই এক গল্প তুলে ধরা হয়েছে ডিফেন্স রিসোর্চ ফোরামের সাইটে।

সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য সেই পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।

"বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে বীরত্ব ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে। তেমনই একটি বীরত্বের ঘটনা বলবো আজ। যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন কানাডার সামরিক সচিব।

আফ্রিকার কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ব্রাজভীল। সেখান থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেজ ক্যাম্পের দূরত্ব ছিলো প্রায় ৩৫০ কিঃমিঃ। রুটিন কাজের মতই এই পথে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দলকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা। সে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কানাডার একজন প্রতিরক্ষা সচিব, যিনি পরর্বতীতে ন্যাটোর সামরিক সচিব হন।

যাত্রার পর বেজ ক্যাম্প থেকে মাত্র ৮০ কিঃমিঃ দূরে পুরো বহরটি মিলিশিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিনিধি দল। কিন্তু, সামনে থাকা এপিসির একজন সেনা কর্মকর্তার বুকের সামনে একটি বারো দশমিক সাতের এসে লাগে, তার এবং গু’লি’র মাঝে কেবল এপিসির প্লেট। তিনি এ যাত্রায় রক্ষা পান। এতে তিনি সাহস না হারিয়ে তার এসএমজি থেকে ফায়ার ওপেন করেন এবং পেছনের গাড়িকে সংকেত দেন কনভয়টি আক্রান্ত হয়েছে। আটটা গাড়ি, এরমাঝে তিনটা বিটিআর ৮০ এপিসি, দুইটা জাতিসংঘের এবং দুইটা পিক আপ। প্রথম এপিসির ইনচার্জ দ্রুতই অন্য আরেকটি এপিসির সহায়তার মাধ্যমে ফায়ার এন্ড মুভ করে জাতিসংঘের গাড়ি দুইটি নিয়ে নিরাপদে ডেড লাইন পার করেন। এর মাঝেই চার জন আহত হয়। দুইজনের সামান্য হলেও, একজনের অবস্থা একটু খারাপ হয়। বাকি একজনের রক্ত’পাত। তবে, আশ্চর্যের কথা আহত হয়েও কেউ ফায়ার অফ করে নাই। পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ প্রমাণ রেখে তারা নিরাপদে বেজ ক্যাম্পে আসে। বাকি দল সংগঠিত আকারে যুদ্ধ করলেও মিলিশিয়ারা অসংখ্যায়িত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মিলিশিয়াদের মতে, তারা দেশের জন্য জীবন দিচ্ছে, কাজেই, ৪৫ দিন পর তারা আবার রাজধানীতে জন্ম নিবে। এই ধরনের অবস্থাই দ্রুত রেসপন্স দরকার পরায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার এবং পদাতিক সৈন্য নিয়ে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের রেসকিউ করে।

যুদ্ধ শেষে ঐ এলাকায় মিলিশিয়াদের ৩৫৬টি লাশ পাওয়া যায়। এই বহরের মাঝে থাকা সেই কানাডার সামরিক সচিব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘুমন্ত পারমাণবিক বোমা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, "নতুন করে যুদ্ধ শিখলাম"।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধুমাত্র দেশবাসীর কাছে আবেগের জায়গা নয় বরং দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বে অনন্য নজির গড়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান অসামান্য এবং দেশের বিপদে যেমন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে দেখা যায় এবং বিপদে মানুষের পাশে পাওয়া যায় ঠিক তেমনি বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এমন সেবা দিয়ে আসছে তাতে করে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বিশ্ববাসী

Sites