নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আসার যে ঘোষণা দিয়েছে দলটি সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সফর থেকে কোনো খেলোয়াড় নাম প্রত্যাহার করতে চাইলে বোর্ড আটকাবে না। নিরাপত্তা শঙ্কা মাথায় নিয়ে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে বাংলাদেশে আসবেন না স্টুয়ার্ড ব্রড। আরো কেউ কেউ নাম প্রত্যাহার করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইসিবির বিবৃতি থেকে।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ২০১১ সালে একবার এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। আমেরিকায় ৯/১১’র হামলার পর দেশটির ভারত সফর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ইসিবি একই ঘোষণা দেয়। তখনও বলা হয়, কেউ যেতে না চাইলে বোর্ডের সমস্যা নেই। ওই সময় অ্যান্ড্রু ক্যাডডিক দল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
নাম প্রত্যাহার করে ভালোই বিপাকে পড়েন এই ইংলিশ ক্রিকেটার। সেই যে দল থেকে বাদ পড়েন আর ফিরতে পারেন নি। অথচ তিনি ২০০৩ সাল পর্যন্ত
কাউন্টিতে দিব্যি খেলেছেন। সেই অ্যান্ড্রুর বয়স এখন ৪৭।
গতকাল ইংল্যান্ডের একটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়ে অ্যান্ড্রু ক্যাডডিক বলেন, বাংলাদেশ সফর থেকে কেউ নাম প্রত্যাহার করলে বিপদে পড়ে যাবে। ভবিষ্যতে তার জাতীয় দলে ঢোকাই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের নিজস্ব মতামত নিতে হবে। কিন্তু সবটাই নির্ভর করছে বোর্ড কীভাবে বিষয়টি দেখছে।
২০০১ সালে শুধু অ্যান্ড্রুই নন। ইংল্যান্ডের প্রায় ১০জনের মতো ভারতে যেতে বেঁকে বসেন। কিন্তু সংখ্যাটা পাঁচে নামতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসিবি থেকে বলা হয়েছিল, কেউ সফরের ব্যাপারে দ্বিমত প্রকাশ করলে নাম গোপন রাখা হবে। কিন্তু পরদিন প্রতিটি চ্যানেলে দেখলাম আমাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশ্ব গণমাধ্যমের কাছে আমি তৃতীয় পেজের সংবাদে পরিণত হই। আশা করবো ইসিবি ২০০১ সালের মতো আচরণ করবে না।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছাবে ইংল্যান্ড দল। প্রথম ম্যাচ হবে ৪ অক্টোবর। সফরে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ ও দুটি ওয়ানডে খেলবে তারা। প্রায় এক মাসের সফর শেষ হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে। প্রথম থেকে এই তারিখেই বাংলাদেশে আসার কথা ছিল দলটির। কিন্তু গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশ সফর নিয়ে চারদিক থেকে নানা মন্তব্য আসতে থাকে। বিসিবি অবশ্য বরাবর বলে আসছিল, ইংল্যান্ড নির্ধারিত সময়েই আসবে।
স্টুয়ার্ট ব্রড ইতিমধ্যে বাংলাদেশে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সফরের দ্বিতীয় টেস্টে তার ১০০তম ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ ছিল। ব্রডের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা শঙ্কা মাথায় নিয়ে তিনি ঢাকায় যাবেন না। দলের বাকি সদস্যরা কোন পথে হাঁটেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Sites