কর্ণফুলী থানাধীন চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি সংলগ্ন ডিএপি ফ্যাক্টরিতে বিস্ফোরণে এমোনিয়া গ্যাস নির্গত হয়ে কয়েকশ লোক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে থাকায় ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, কাফকোসহ আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এমোনিয়া গ্যাস বাতাসে মিশে পতেঙ্গা, হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং কর্ণফুলীতে নোঙ্গরকরা জাহাজের নাবিকরা আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় ৫০ কি. মি. এলাকাজুড়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টায় ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে এমোনিয়া ট্যাংক বিস্ফোরণ হয়। এতে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও আনসারসহ কমপক্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে অর্ধশতাধিক লোককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে বিস্ফোরণে নির্গত গ্যাস বাতাসে কাফকো কারখানা, মেরিন একাডেমি, সিইউএফএল জেটি, কর্ণফুলীর মোহনা, বন্দর, পতেঙ্গা ও হালিশহর পর্যন্ত এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। লোকজন গ্যাস প্রতিক্রিয়ায় শ্বাস নিতে পারছে না।
পার্শ্ববর্তী কাফকো কারখানায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে কাফকোর কর্মকর্তা ও শ্রমিকরাও আহত হন।
ডিএপি ফার্টিলাইজারের এমডি অমল বড়ুয়া গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে বড় ধরনের কিছু হয়নি দাবি করেন তিনি বলেন, কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এমোনিয়া গ্যাসের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল আলম চৌধুরী ঢাকাটাইমমসকে বলেন, ‘এমোনিয়া গ্যাস দেহে প্রবেশ করলে রক্তের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ ব্যক্তির বমি হয়। নাক চোখে জ্বালা পোড়া করে। অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুও ঘটতে পারে’।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এমোনিয়া গ্যাস নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ না করে খোলা রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই আগুন জ্বালানো যাবে না। শিশুদের পানি ও দুধ খাওয়াতে হবে। যতটুকু সম্ভব গ্যাস থেকে দূরে থাকতে হবে’।
             

Sites