চিংড়ির ওজন বাড়াতে ইনকেজশন দিয়ে জেল ঢুকানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। চিংড়ির গায়ের রঙের এসব জেলি সহজে বোঝা না যাওয়ায় ঠকছে ক্রেতারা।
প্রায়ই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জেল দেয়ার অভিযোগে সাজা দেয়া হয় অপরাধীদেরকে। তারপরও এই প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, মূলত একটু বড় আকারের চিংড়িতে এই জেল ব্যবহার করা হয়।
বিভিন্ন ইন্টারনেট পেজ ঘেঁটে দেখা যায়, সিজারিয়ান অপারেশনের পর ক্ষত ঢাকতে এই সিলিকন জেল ব্যবহার করা হয়। কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যে কেউ এগুলো কিনতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এটা তো খাদ্য উপাদান নয়। পেটে গেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।’ এই শিক্ষক বলেন, ‘স্বাস্থ্য সমস্যার কথা বাদ দিন, এমন একটা জিনিস কেন মাছে দিতে হবে? এটা তো নৈতিকভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’ 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নারী তার বাড়িতে চিংড়ি থেকে জেলি বের করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেছেন। ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। 
এই ভিডিওর নিচে চারশরও বেশি মানুষ নানা মন্তব্য লিখেছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাজমুল আলম ফাহাদ নামে একজন লিখেছেন, ‘রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে বিল্ডিং, লাশের বরফ দিয়ে লাচ্ছি, শরবত, টিস্যু দিয়ে ক্ষিরমোহন, ওজন বাড়াতে সিলিকা জেল... এসবই প্রমাণ করে আমাদের জাতির পঁচন কোথায় গিয়ে ঠেকেছে! এমন ঠগ ধূর্ত অনিরাপদ মানবসম্পদ কোথায় আছে আর?’
মাহবুবুর রহমান নামে একজন লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষ ভাবতে আমার বমি আসছে। দুধের মধ্যে শ্যাম্পু, চিংড়ী মাছে সিলিকন জেলি আরও কত অখাদ্যকে খাদ্যে পরিণত করছে অমানুষের দল।’
ইকবাল শিকদার লিখেছেন, ‘অসৎ লোকগুলো নিজের সামান্য কিছু লাভের জন্য, পুরা জাতিকেই অপমান লাঞ্ছনার বয়ে বেড়াতে হয়।’
মামুন স্ট্যালিন লিখেন, তিনি বাজার থেকে দুই কেজি গলদা চিংড়ি কিনে প্রত্যেকটি মাথায় ভিতর এই জেলি পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তাই মাছ আলাকে থাপ্পড় দিতে গিয়েছিলাম ও বলছে যে ভাই আমি কিচ্ছু জানি না এ ব্যাপারে।’
ভিডিওতে যা আছে
আজাদ নাসরিন নামে ওই গৃহিনীর আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, একজন হকার তার বাড়িতে চিংড়ি বিক্রি করতে এসেছেন। তার নাম মানিক মিয়া। নাসরিন তার চিংড়ি ধরেই বুঝতে পারেন এতে ঘাপলা আছে। কিন্তু বিক্রেতা মানতে নারাজ।
নাসরিনকে ওই চিংড়ি বিক্রেতা বলেন, ‘আমিও জানি না কিছু আছে কি না, আমারও দেখা দরকার।’ পরে নাসরিক চিংড়ি খুলে ভেতরের জেলি বের করে দেখান। বলেন, ‘দেখছেন, দেখছেন?’। এরপর ওই বিক্রেতা আর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এই পর্যায়ে নাসরিন ওই চিংড়ি বিক্রেতাকে বলেন, ‘এই জিনিস খেলে মানুষ মারা যাবে না? এগুলো খেলে তো মানুষের কিডনি নষ্ট হবে, স্টমাক নষ্ট হবে, হার্ট নষ্ট হবে।’
এরপর ওই নারী একটি বাটি ভর্তি সিলিকন জেলি বের করে দেখান। বলেন, এক কেজি চিংড়িতে থেকে এগুলো বের করেছেন তিনি। এগুলোর ওজন হবে আনুমানিক আড়াইশ গ্রাম।

Sites