প্রায় ৯ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করি। বিয়ের পর এইচএসসি, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছি। যখন বিয়ে করেছিলাম তখন আমার স্বামী বেকার ছিলো। বিয়ের ৫ বছর পর ও জব করা শুরু করে। ৩ বছর জব করে আবার ছেড়ে দেয়। এখন সে সম্পূর্ণ বেকার।

এর মাঝে একটি ছেলে হয় আমাদের (১ বছর)। আমার স্বামী আমার কোন আবদার পুরন করতে পারেনা। আমরা সম্পুর্ন ভিন্ন মতের। তাতে আমি সামলে নিয়েছি। মানসিকভাবেও আমি ওর প্রতি সন্তুষ্ট নই।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...

কিন্তু আজকাল শারীরিকভাবে ও আমাকে ইগনোর করছে। ও কয়েক মাস পর পর আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। ও আমার রুমে থাকেনা। আরেক রুমে থাকে। ও শারীরিকভাবে দুর্বল। আমি ওর চিকিৎসা করাতে চাই কিন্তু ও নিজেকে সুস্থ ভাবে। কিন্তু এরকম শারীরিক সম্পর্কের জীবন কেউই মেনে নিবেনা।

আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। ওর সাথে শারীরিক ভাবে মিলিত হতে চাই। ও এটা বুঝেও না বুঝার ভান করে। আমি প্রচন্ড হতাশ। আমাকে একটু পরামর্শ দিবেন, আমি কী করবো? আমার কী করা উচিৎ?

প্রশ্নটি আমাদের ফেসবুক পেজে করেছেন : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী

চাইলে আপনিও নিজের মনের যে কোন প্রশ্ন করতে পারেন আমাদের সাইটে। প্রশ্ন করতে ও উত্তর জানতে নিজের নাম গোপন রাখতে চাইলে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন পেজের ইনবক্সে, সাথে লিখে দেবেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর:
আপু, আপনার সমস্যাটি বেশ জটিল, তবে অস্বাভাবিক নয়। আপনার চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে স্বামীর ওপরে আপনি বেশ ক্ষিপ্ত। আমি বুঝতে পারছি আপনার ধৈর্য ফুরিয়ে এসেছে। আমি যা বলছি একটু ঠাণ্ডা মাথায় শুনবেন, তারপর যা করণীয় করবেন প্লিজ।

ছেলের বয়স ১ বছর, আপনাদের বর্তমান শারীরিক সম্পর্ক বিষয়ে বলেছেন যে তিনি আলাদা রুমে থাকছেন। অনেক পুরুষই সন্তান হবার পর ঠিক মানিয়ে নিতে পারেন না। স্ত্রীর সাথে একটা দূরত্ব হয়ে যায়। আবার অনেকেই স্ত্রী গর্ভবতী থাকা অবস্থায় পরনারীতে আসক্ত হয়ে পড়েন। অনেক পুরুষ আবার পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েন। আপনি খুব ভালোভাবে খতিয়ে দেখুন যে স্বামীর এসব কোন কিছুতে আসক্তি আছে কিনা।

আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না যে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মেয়েদের শরীরের মাঝে একটা বড় পরিবর্তন আসে। নিজে সেটা না বুঝলেও শরীরে একটা ছাপ পড়ে যায়, নিজের সৌন্দর্য হারিয়ে যায়। শারীরিক সম্পর্ক তো আর ইচ্ছা বিরুদ্ধে করা যায় না, আকর্ষণ অনুভব করতে হয়। আপনি নিজের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনুন। স্বামী যেভাবে আপনাকে দেখতে ভালোবাসেন, নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করুন, ছেলেকে সামাল দিয়ে একটু একান্ত সময় বের করার চেষ্টা করুন। হয়তো স্বামী আবার আপনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। স্বামীকে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য জোর দেবেন না। তাঁর কাছাকাছি থাকুন, সুন্দর করে কথা বলুন, ঘনিষ্ঠ হয়ে বসুন, চুমু খান। এই সবই তাঁকে মানসিক ভাবে উত্তেজিত করে তুলবে। মানসিক উত্তেজনা না থাকলে শরীরের সম্পর্ক অর্থহীন।

আরেকটি কথা আপু, পুরুষ সেই নারীর কাছে থাকতেই পছন্দ করে, যার সামনে নিজেকে সুপার ম্যান মনে হয়। আপনি যদি ক্রমাগত স্বামীর বেকার থাকা নিয়ে তাঁকে খোঁটা দেন কিংবা শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তাঁকে কথা শোনান, স্বামীর সাথে আপনার দূরত্ব কেবলই বাড়বে। যদি দাম্পত্য রক্ষা করতে চান তো এই কাজটি একেবারেই করবেন না। বরং শারীরিক সম্পর্কে মিথ্যা করে হলেও সন্তুষ্ট হবার ভান করুন। এতে স্বামীর আত্ম বিশ্বাস বাড়বে, আপনার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেউ একজন দুর্বল হলে আরও নানান রকম উপায় আছে পরস্পরকে সন্তুষ্ট করার। সেইসব পায় আস্তে আস্তে দুজনে মিলে অবলম্বন করতে পারেন। তাতেও কাজ না হলে আস্তে আস্তে বুঝিয়ে স্বামীকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। প্রয়োজনে দুজনেই একসাথে যাবেন। আপনি নিজেও স্বামীর সমস্যাগুলো নিয়ে একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন।

সবচাইতে বড় কথা আপু, স্বামীকে যে আপনি ভালোবাসেন, তাঁকে খুব কাছে পেতে চান, সেটা সারাক্ষণ তাঁকে দেখাবেন। নিজেকে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে তিনি আপনার কাছেও আসবেন।

Sites