পুলিশ আর গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের চাপে পড়েই তিনি শুধু লাশ শনাক্ত করেন। কিন্তু শাকিরাকে নিজের মেয়ে বলতেও দ্বিধাবোধ করেন। এমন নিয়তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশনে ফিরে এলেন জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত ও আত্মঘাতী শাকিরার বাবা। লাশ বয়ে আনেননি বাবা শাহে আলম। শশিভূষণ ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন তিনি। তার পক্ষে বিপথগামী মেয়ের লাশ বহন করা সম্ভব হয়নি। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওই লাশ তার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এমন সন্তান যেন আর কারও না হয়। ক্ষোভে দুঃখে হতভাগ্য বাবার মুখে এমন কথাও আসে। শুক্রবার চরফ্যাশন শশিভূষণ থানার ওসি আবুল বাশার যুগান্তরকে এসব বিষয় তুলে ধরেন। শাহে আলমকে ঢাকায় নিয়ে যান এসআই আসাদুজ্জামান। শুক্রবার তিনি শাহে আলমকে নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। এদিকে শাকিরা কেন মারা গেল, কেন জঙ্গিপথে গেল, জঙ্গি সুইসাইড বোম্বিং স্কোয়াড বাহিনীর অন্যতম সদস্য কিভাবে হল, কারা এর পেছনে রয়েছে- এলাকার চায়ের দোকানে এমন আলোচনায় সরগোল। যুগান্তরের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এলাকায় গেলে শাকিরার নানা তথ্য বের হয়ে আসে। জেলা শহর থেকে একশ’ কিলোমিটার দূরে চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানার এওয়াজপুর গ্রাম। এ গ্রামের শাহে আলম চৌকিদারের মেয়ে শাকিরা। ৩ মাস আগে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছিল। ৫ দিন থেকেছে। ওই সময় তার কিছু আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। দ্বিতীয় স্বামী আলোচিত সুমনের বিষয় স্বজনদের না জানালেও সুমন নামের একজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হতো ঘন ঘন। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মা ফাতেমা বেগম উঠোনে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত। ছোট বোন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী কামরুন নাহার ভয়ে ভয়ে কিছু কথা বলে। শাকিলা দক্ষিণ সিবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে। আবার মাদ্রাসায়ও কিছু দিন পড়ালেখা করে। তবে ওই বাড়ির সম্পর্কে আশপাশের মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চান না কেউ। তবে মা ফাতেমা বেগম জানান, বাড়িতে না এলেও মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে কথা হয়। কেমন আছে এতটুকুই কথা হতো। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় তাকে ৪ বছর আগে পার্শ্ববর্তী লালমোহন উপজেলার জনৈক ইকবালের সঙ্গে বিয়ে হয়। ইকবাল ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। এই ইকবাল ও শাকিরার সংসারে মেয়ে সাবিনা।
ইকবাল ক্যান্সারে ভুগে সাড়ে ৩ বছর আগে মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর শাকিরা মেয়েকে নিয়ে ভোলায় ফিরে আসেনি। রাশেদুর রহমান ওরফে সুমনকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করে। টাকা রোজগারের পথ হিসেবে সুমনই তাকে স্কোয়াড বাহিনীতে যুক্ত করে। এমন কথাও স্থানীয়দের।
এলাকার ইউপি মেম্বার স্বপন সিকদার জানান, মেয়েটি আগে ভালোই ছিল। সুমনের সঙ্গে বিয়ের পরেই অন্য পথে চলে যায়। যুগান্তর

Sites