আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত নানা প্রতারনার ঘটনা ঘটছে এবং দেখা যাচ্ছে এই প্রতারনার কারনে অনেকেই বিপদে পড়েন।বর্তমানে নারীরা এই প্রতারনার কাজে লিপ্ত হচ্ছেন এবং প্রেম কিংবা বিয়ের ফাদে ফেলে মানুষের বিভিন্ন মুল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নেয় এ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ভাগিনাকে নিজের স্বামী বলে দাবি করেছেন খালা। তবে তার এ দাবিকে অস্বীকার করে এটাকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন এরশাদ নামের ঐ ভাগিনা। অপরদিকে খালা থেকে স্ত্রী দাবী করা ওই নারী বাদী হয়ে এরশাদ ও এরশাদের পরিবারকে আসামি করে ১৫ জুলাই কচাকাটা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করছেন বলে বাদী ও কচাকাটা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আর এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি শকুনটারী গ্রামে।

মামলা এজহার সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ভেল্লিকুড়ি চর ভূরুঙ্গামারীর মোছাঃ নাজমু (ছদ্মনাম) (২৯) নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি শকুনটারী গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মোঃ এরশাদুল হক (২৭) এর সাথে গত ২৭/০৫/২১ ইং তারিখে ১০ লক্ষ টাকা কাবিন মূলে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক তাদের মধ্যে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তারা দুজনেই কুড়িগ্রামের এক ভাড়া বাসায় থাকতো। এরই এক পর্যায়ে গত ১৮/০৬/২১ ইং তারিখে এরশাদুল হক বাবার অসুস্থতার কথা বলে নিজ বাড়ীতে চলে আসে। চলে আসার পরে ২০/০৬/২১ ইং ১২ টা ৩০ মিনিটে এরশাদুলের বাবা মজনু মিয়া নাজমুর (ছদ্মনাম) কাছে ৮ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে এবং টাকা না দিলে ছেলেকে অন্যখানে বিয়ে দিবে বলে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়। এরই এক পর্যায়ে নাজমু (ছদ্মনাম) স্বামীর দাবীতে ২২ জুন এরশাদুলের বাড়িতে এলে এরশাদুলের পরিবারের অনেকেই তাকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও শারীরিক নির্যাতন করে বলে মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে এরশাদুল হক বলেন, আমাকে মিথ্যাভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে। আমার বাবা ওই মহিলা কাছে যৌতুকের টাকা চাইবে কেন। তার সাথে আমার কোনো বিয়ে হয়নি। ওই মহিলার দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে, বড় ছেলে তো প্রায় আমার সমান। তাকে বিয়ে করা প্রশ্নেই আসেনা। আসলে তাকে কেউ বিয়ে করা লাগেনা। ও যাকে খুশি তাকে স্বামী দাবী করে বিয়ের ভূয়া কাবিনে মোটা অংকের টাকা তুলে শেষে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে তাকে বিপদে ফেলে টাকা আদায় করে। এটা তার ব্যবসা। এরশাদুল হক আরো জানান- ওই মহিলার প্রথম বিয়ের স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব অল্প দিনের মধ্যে আরো দুটি বিয়ে হয়। তার একটি – গত ০২/০২/২০১৮ ইং তারিখে উলিপুর থানার পূর্ব নাওডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাইদুল ইসলামের সাথে।

এ বিয়টি দুইজন স্ত্রী-সন্তান গোপন এবং শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনের কারণে গত ২৯/১০/২০১৯ ইং তারিখে নাজমু(ছদ্মনাম) নিজেই তালাক প্রদান করে,এবং পরবর্তীতে তালাকপ্রাপ্ত স্বামী সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূরুঙ্গামারী থানায় পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৯/১১/২০২০ ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ১৫। সে মামলায় ওই মহিলা আমাকে ভাগিনা উল্লেখ করে করে আমাকে স্বাক্ষী পর্যন্ত বানিয়েছে বলে এরশাদুল হক জানায়।

আর অপর বিয়েটি হলো- ভুরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারীর মৃত শুকুর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন এর সাথে। বিয়েটি গত ১৭/১১/২০১৯ ইং তারিখে নোটারী পাবলিক কার্যালয়,কুড়িগ্রামে উপস্থিত হয়ে এফিডেভিট এর মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিয়ে করে করেন তারা। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নাজমু (ছদ্মনাম) এরশাদুল হকের সাথে তার বিয়ের কাবিননামায় নিজেকে তালাকপ্রাপ্তা দাবী করলেও আসলে তিনি জয়নাল আবেদীন কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত নন বা নাজমু(ছদ্মনাম) কর্তৃক কোনো তালাকের কাগজ এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন জয়নাল আবেদীন।

তালাকে বিষয়ে জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রায় দু’বছর আগে নাজমার সাথে আমার বিয়ে হয়। ওর এবং আমার বিয়ের বিষয়ে এলাকার সবাই জানে। তার নামে জমিও লিখে দিছি। এই তো গত জুন মাসে আমার কাছে কাজের কথা বলে এক লক্ষ টাকা নিল। টাকা নেয়ার পর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি আজও তালাকের কোনো কাগজপত্র পাইনি। এরশাদুল হক সম্পর্কে নাজমা খাতুন বলেন, ধর্মীয়ভাবে এরশাদুল হকের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। এ বিষয়ে সকল কাগজপত্র আমার কাছে আছে।

কচাকাটা থানা অফিসার ইনচার্জ জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে মামলার পুলিশ প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।

প্রেম বিয়ের প্রতারনা প্রায় সময় দেখা যায়। মুলত বর্তমান সময়ে নারিরা এই প্রেম বিয়ের প্রতারনার কৌশল ভালবাবে রপ্ত করছে এবং সাধারনা মানুষকে কিভাবে বোকা বানানো যায় সেই চেষ্টা করে যাচ্ছ তারা

Sites